
স্পোর্টস ডেস্ক |
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে বড় কিছু নেই: ফ্রান্স কোচ দেশমএরই মধ্যে দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স। একবার ১৯৯৮ সালে, অন্যবার ২০১৮ সালে। দু’বারই ফ্রান্স দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দিদিয়ের দেশম। ১৯৯৮ সালে তিনি ছিলেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। বিশ্বকাপ ট্রফিটা প্রথম তিনিই উঁচিয়ে ধরেছিলেন। এরপর ২০১৮ সালে ছিলেন কোচ।সুতরাং, বিশ্বকাপ এলেই দিদিয়ের দেশমের কাছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করা ছাড়া অন্য কিছুর মূল নেই। ফ্রান্সের বর্তমান কোচ মনে করেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে বড় কিছু নেই। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে দিদিয়ের দেশম জানিয়ে দিয়েছেন, অতীতের সাফল্য নয়, তার সব মনোযোগ এখন বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে।বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপনকোচ হিসেবে নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ সামনে রেখে ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশম বলেন, ‘আমি সবসময় আজ আর আগামীকাল নিয়েই ভাবি। ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের স্মৃতি সবসময় আমার সঙ্গে থাকবে; কিন্তু অতীত বদলানো সম্ভব নয়। এখন গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সামনে আমরা কী করি, সেটা।’ফ্রান্সকে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতানো এই কোচ ১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবেও বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। দেশম বলেন, ‘১৯৯৮ আর ২০১৮- দুই অভিজ্ঞতাই ছিল জাদুকরী। ক্লাব পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অনেক শিরোপা জিতেছি; কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো কিছু নেই। তখন আপনার নামের সঙ্গে চিরদিনের জন্য দুটি শব্দ যোগ হয়ে যায়- বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।’
বিশ্বকাপ ইতিহাসে খেলোয়াড় ও কোচ- দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জেতা মানুষের সংখ্যা মাত্র তিনজন। দিদিয়ের দেশম, ব্রাজিলের কিংবদন্তি মারিও জাগালো এবং জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার এই তালিকায় আছেন। এবার ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতলে দেশমই হবেন প্রথম কোচ, যিনি টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছাবেন এবং কোচ হিসেবে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বেন।বিজ্ঞাপন২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও ফ্রান্সকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ধরা হচ্ছে। তবে দেশম বাস্তববাদী। তার ভাষায়, ‘২০১৮ সালে আমরা শিরোপা জিতেছি, ২০২২ সালে ফাইনাল খেলেছি। তাই সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকাটাই স্বাভাবিক। বাস্তবিক অর্থেই ১০ বা ১২টি দেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হবে মাত্র একটি দল। অর্থাৎ অন্তত ১১টি দল হতাশ হবে।’ফ্রান্স এবার গ্রুপ পর্বে খেলবে সেনেগাল, নরওয়ে ও ইরাকের বিপক্ষে। উদ্বোধনী ম্যাচেই সেনেগালের মুখোমুখি হবে লে ব্লুরা। এই ম্যাচ ঘিরে ফিরছে ২০০২ বিশ্বকাপের স্মৃতি, যখন শিরোপাধারী ফ্রান্স সেনেগালের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল।তবে দেশম প্রতিশোধের কথা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তখনকার সময় বর্তমান খেলোয়াড়দের অনেকেই জন্মায়নি বা বিষয়টি বোঝার বয়স হয়নি। খেলাধুলায় প্রতিশোধ বলে কিছু নেই। এটা নতুন অধ্যায়। সেনেগাল আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল জাতি।’
ফ্রান্সের আক্রমণভাগ এবারও তারকার ঝলকে ভরা। উসমান ডেম্বেলে ২০২৫ সালের ‘দ্য বেস্ট ফিফা প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ ও ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতেছেন এবং পিএসজিকে টানা দ্বিতীয়বার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাতে ভূমিকা রেখেছেন। বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল অলিসেও দুর্দান্ত ফর্মে আছেন।অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে আবারও গোলের বন্যা বইয়েছেন। চলতি মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫ গোল করে তিনি হয়েছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এছাড়া দেজিরে দুয়ে, রায়ান শেরকি ও মার্কাস থুরামও আক্রমণভাগে জায়গার জন্য লড়াই করবেন।বিজ্ঞাপনতবে এত তারকা থাকলেও দলীয় ভারসাম্যের ওপরই জোর দিচ্ছেন দেশম। তিনি বলেন, ‘সবাই তো খেলতে পারবে না। প্রতিভা অনেক আছে; কিন্তু সঠিক সমন্বয় দরকার। ব্যক্তিগত অহংকার যেন বাধা না হয়। আমাদের দরকার ভারসাম্য এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া।’ফ্রান্সের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী হলেও দেশম মনে করিয়ে দিয়েছেন, বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতার গুরুত্বও অনেক। ‘২০১৮ সালের দলে যারা ছিল তারা ২০১৪ ও ২০১৬-এর বড় টুর্নামেন্ট খেলেছিল। এবার অনেক তরুণ খেলোয়াড় আছে, যাদের বড় আসরের অভিজ্ঞতা সীমিত।’ফরাসি কোচ খেলোয়াড়দের দায়িত্ববোধ নিয়েও কথা বলেছেন। ‘ফ্রান্সের জার্সি গায়ে চাপালে দায়িত্ব আসে। ১৪ বছর আগে প্রথম দিন থেকেই আমি বলেছি- জাতীয় দলে এসে কিছু নিতে নয়, দিতে হবে।’
ফরাসি জাতীয় দলের সঙ্গে দেশমের সম্পর্ক প্রায় ২৫ বছরের। খেলোয়াড় হিসেবে ১১ বছর এবং কোচ হিসেবে ১৪ বছর কাজ করেছেন তিনি। তাই বিশ্বকাপের পরের জীবন নিয়ে এখনও ভাবেননি দেশম।