
১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোক্তা পর্যায়ে বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) দাম।১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৮৩৭ টাকা থেকে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২০৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
নতুন ঘোষণায়, আমদানিকারকদের মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ (অপারেটরের প্লান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ) ১২ কেজিতে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ দশমিক ৭৬ টাকা। ডিলারদের চার্জ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে বিইআরসি। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪ দশমিক ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯১ দশমিক ৯৫ টাকা করা হয়েছে। যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম সেপ্টেম্বর মাসে ছিল লিটারপ্রতি ৭৩ দশমিক ০৯ টাকা।
এলপিজিগ্যাসের দামবাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনবিইআরসি
দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে অস্থিরতা, সরবরাহ সংকট এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলপিজি অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সরকার নির্ধারিত দাম বাস্তবায়ন, চাহিদা অনুযায়ী আমদানি অব্যাহত রাখা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিলারদের কাছে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেও অপারেটরদের তাগিদ দিয়েছেন মন্ত্রী।
সচিবালয়ে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে এলপিজির চাহিদার তুলনায় সরবরাহযোগ্য পণ্যের প্রাপ্যতা প্রায় ৩০ শতাংশ কম। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ১৮৩৭ টাকা দামের ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১৯০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকায়।
এদিকে আজ এলপিজি ডিলারদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কমিশন ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে গণশুনানির আয়োজন করেছে বিইআরসি। ফলে একদিকে সরকারনির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করার উদ্যোগ, অন্যদিকে ডিলারদের কমিশন ও মূল্যসংক্রান্ত দাবি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার গণশুনানি- দুটিই এলপিজি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।
আমদানি বাড়লেও বাজারে সংকট কেন : জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সভায় উপস্থাপিত প্রেজেন্টেশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশে এলপিজি আমদানি গত বছর একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১১ লাখ ৬৭ হাজার ৫১৫ টন। ২০২৫ সালের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৬ হাজার ১১৯ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে এক লাখ ৬১ হাজার ৩৯৬ টন বা ১৬ দশমিক ০৪ শতাংশ।
মাসভিত্তিক তথ্যেও আমদানির উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা যায়। জানুয়ারিতে আমদানি হয়েছে এক লাখ ১৭ হাজার ১৯৭ টন, ফেব্রুয়ারিতে এক লাখ ৩৪ হাজার ২৫০ টন এবং মার্চে এক লাখ ৮৬ হাজার ২০১ টন। মার্চের পর এপ্রিলে আমদানি কমে দাঁড়ায় ৮৮ হাজার ৬৮৯ টনে। মে ও জুনে আমদানি ছিল যথাক্রমে ৯৭ হাজার ৪৪৬ ও ৯৮ হাজার ২৬২ টন।
জুলাইয়ে আমদানি হয়েছে এক লাখ ৩২ হাজার ৫৯৩ টন। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৭৮ হাজার ৮১২ টনে। সেপ্টেম্বরে আবার কমে হয় এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৬ টন।
এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সামগ্রিকভাবে আমদানি বাড়লেও মাসভিত্তিক সরবরাহে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা রয়েছে। তবে শুধু আমদানির পরিমাণ বাড়া বা কমার তথ্য দিয়ে বাজারে সংকটের পূর্ণ কারণ নির্ধারণ করা যায় না। আমদানির সময়, মজুদ, পরিবহন, অপারেটরদের সরবরাহ পরিকল্পনা এবং ডিলার পর্যায়ে পণ্য পৌঁছানোর ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় উপস্থাপিত প্রেজেন্টেশনে এলপিজি বাজারে চাপ তৈরির কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সেপ্টেম্বর থেকে সংকটের শুরু, এলপিজি আমদানি করে এমন কোম্পানির সংখ্যা কমে যাওয়া, কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ও ঋণপত্র বা এলসি-সংক্রান্ত সমস্যা এবং বাড়তি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি না হওয়া। বিশেষ করে বড় কয়েকটি কোম্পানি আমদানি থেকে সরে আসায় সংকট বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংকট, ইরানযুদ্ধ ও বৈশি^ক কারণে নিয়মিত অব্যাহত আমদানি কম-বেশির প্রভাবও অভ্যন্তরীণ বাজারকে প্রভাবিত করেছে। অর্থাৎ সামগ্রিক আমদানি বৃদ্ধির পরও বাজারে পণ্য সরবরাহের সময় ও বণ্টনে অসামঞ্জস্য তৈরি হলে ভোক্তাদের কাছে তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেলে খুচরা বাজারে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়।