
বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি
ঢাকার পার্শ্ববর্তী উপ-শহরাঞ্চলীয় এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করতে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এর ফলে ওই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা এবং টেকসই সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এডিবির ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় বাংলাদেশ পল্লি বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীনস্থ ঢাকা ও এর আশেপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও নগর অঞ্চলের ১৩টি পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির অবকাঠামো সংস্কার করা হবে।
এডিবির ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত লোড থাকা সাবস্টেশন, পুরোনো অবকাঠামো, সিস্টেম লস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিজনিত সমস্যাগুলো দূর করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ, টেকসই এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
টেকসই প্রবৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য একটি আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। ঢাকার আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক করিডোরগুলোতে উন্নত প্রযুক্তি ও শক্তিশালী অবকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমে এ প্রকল্প নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
’
প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
সাবস্টেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি: ৫২টি নতুন সাবস্টেশনে ১,১৫০ মেগাওয়াট-অ্যাম্পিয়ার (এমভিএ) ট্রান্সফরমার সক্ষমতা যুক্ত করা হবে এবং বিদ্যমান ১২টি সাবস্টেশনের সক্ষমতা ১১৫ এমভিএ বাড়ানো হবে।
লাইন ও ডিস্ট্রিবিউশন: ২,৬০০ কিলোমিটারের বেশি ওভারহেড ও আন্ডারগ্রাউন্ড ডিস্ট্রিবিউশন লাইন নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে।
আধুনিক প্রযুক্তি: দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত ও নিরসনের জন্য ৯০০টি ‘ফল্ট লোকেটর সেট’ স্থাপনসহ নদী পারাপারের ট্রান্সমিশন কাঠামো এবং সুইচিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীলতা: এডিবির প্রদত্ত ঋণের মধ্যে ১৪৬.৫২ মিলিয়ন ডলার জলবায়ু সহনশীলতা খাতে ব্যয় হবে। এর মধ্যে পরিবেশবান্ধব ‘গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার’ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত, যা সিস্টেম লস কমিয়ে বার্ষিক প্রায় দুই লাখ তিন হাজার ৭৫১ টন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন রোধ করবে।
বাংলাদেশ ২০২২ সালে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য অর্জন করলেও দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। প্রকল্পটি এই বর্ধিত চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও কম কার্বন নিঃসৃত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিআরইবি ও পল্লি বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর কর্মকর্তাদের ডিজিটাল সিস্টেম, সাইবার নিরাপত্তা, পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রকল্পে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০০ মিলিয়ন ডলারের এই এডিবির ঋণের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ১০৭.৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিআরইবি ১৪১.৩৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। পাশাপাশি, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রয়োগ ও কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য এডিবির পরিচালিত ‘রিপাবলিক অব কোরিয়া ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড’ থেকে ১ মিলিয়ন ডলারের কারিগরি অনুদান প্রদান করা হবে।