
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছেন ট্রাম্প, চলছে ২০২৭ সালের প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক বিকল্প খোলা রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সময়সীমা ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়াচ্ছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরুতে স্বল্পমেয়াদি ও দ্রুত সমাপ্তির লক্ষ্য নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলেও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে ১৯টি যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন, বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ও প্যারাট্রুপার।
সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে অনেক ইউনিটের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ছিল ৯ মাস, এখন তা ১২ মাস পর্যন্ত করা হয়েছে।ক্ষেত্রবিশেষে কিছু ইউনিট এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। দীর্ঘ সময়ের এই মোতায়েনে মার্কিন সেনাসদস্য, তাদের পরিবার এবং সামরিক সরঞ্জামের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এখন সামরিক অভিযানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে এসে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং অর্থনৈতিক পতনের মুখে ইরান একটি অনিবার্য পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে সামনে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ট্রাম্পের সহযোগীদের মধ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নির্বাচনকে মাথায় রেখে যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।
এরই মধ্যে বুধবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো সময় ইরানে আবার হামলা চালাতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন। তার দাবি, মার্কিন নজরদারি এড়িয়ে ইরান কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরও কঠোর করার উদ্যোগও নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এমন দেশগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জামের মোতায়েন ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা দ্রুত শেষ হওয়ার বদলে দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাই বাড়ছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল